প্রতি মিনিটে ১৫ হাজার ‘মুভমেন্ট পাসের’ আবেদন, ওয়েবসাইট ডাউন

দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলেও লাগবে ‘মুভমেন্ট পাস’।

বাংলাদেশ পুলিশের মুভমেন্ট পাস পেতে প্রতি মিনিটে ১৫ হাজার আবেদন জমা পড়ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।

এদিকে মুভমেন্ট পাসের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটটি ‘ডাউন’ হয়ে যাওয়ায় প্রবেশ করা যাচ্ছে না বলে বলে অভিযোগ আবেদনকারীদের।

আজ বিকেলে ওয়েব ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওয়েবসাইট ডাউন হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে কোনো ধরনের সেবা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পুলিশের মহাপরিচালক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ আজ রাজধানীর রাজারবাগ অডিটোরিয়ামে মুভমেন্ট পাস অ্যাপ্লিকেশনের উদ্বোধন করেন।

অ্যাপের প্রথম দিনেই মুভমেন্ট পাসের জন্য লোকজনের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, মুভমেন্ট পাসের জন্য এতো লোক আবেদন করছে যে তা সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। প্রথম ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ পাস পেতে আবেদন করেছেন। প্রতি মিনিটে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার।

এই পাস কি কেউ অপব্যবহার করতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি উদ্বোধনকালে বেনজীর আহমেদ বলেন, এই মহামারীর মধ্যেও কেউ যদি এ ধরনের প্রতারণা করে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

আইজিপি বলেন, খুব জরুরি প্রয়োজনে এই পাস ব্যবহার করা যাবে। কেউ তার ফোন নাম্বার এবং গাড়ির নম্বর প্লেট দিয়ে আবেদন করে পাস নিতে পারেন। একটি মুভমেন্ট পাস ব্যবহার করে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা বাইরে থাকা যাবে।

বেনজীর বলেন, করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ কিংবা জরুরি কেনাকেটায় মুভমেন্ট পাস নেওয়া যাবে। এমনি কোনো রোগীর জন্য যদি অ্যাম্বুলেন্সে করে যাওয়া দরকার হয় তাহলেও মুভমেন্ট পাস দরকার হবে।

আইজিপি বলেন, করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে লকডাউনে মানুষজনের অনিয়ন্ত্রিত ও অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ এই অ্যাপ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, পাসটি পেতে ওয়েবসাইটে গিয়ে যিনি পাস নেবেন তার একটি অ্যাকটিভ মোবাইল ফোন নাম্বার দিতে হবে।

এরপর আবেদনকারীর কাছে জানতে চাওয়া হবে কোথায় যেতে চান এবং এভাবে ধাপে ধাপে তার কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হবে। তারপর আবেদনকারী তার একটি ছবি আপলোড করবেন এবং আবেদনটি জমা দেবেন। দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকে পাস দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে, বলেন তিনি।

মুভমেন্ট পাসটি ডাউনলোড করা যাবে এবং ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। যখন বাইরে যাবেন এই পাসটি দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখাতে হবে বলেও জানান তিনি।

এই www.movementpass.police.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে পাসটি সংগ্রহ করা যাবে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা আগামীকাল থেকে লকডাউনে কাউকে রাস্তাঘাটে ও বাইরে দেখতে চাই না। বিনা প্রয়োজনে কাউকে দেখতে চাই না। আমরা চাপপ্রয়োগের চেয়ে নিজেদের উদ্যোগেই এই দায়িত্ব পালন করবেন। এসব না মানলে সমগ্র বাংলাদেশকে আইসোলেশনে নিতে হবে।’

তিনি বলেন, কারও যদি প্রয়োজন না হয় তবে তিনি মুভমেন্ট পাস নেবেন না। কোনো আইনি ইস্যু নেই।

তবে কেউ যদি মুভমেন্ট পাস ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন তবে তাকে পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

আইজিপি বলেন, যদি কেউ মুভমেন্ট পাস না নিতে চান, আমরা তাকে জোর করবো না। এটাতে জবরদস্তির কিছু নেই। আমরা কাউকে জোর করছি না। আমরা কেবল জনগণকে সহায়তা করছি।

জানতে চাওয়া হয়েছিল, প্রান্তিক মানুষ যারা ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না তারা কিভাবে এই পাস পাবেন? আইজিপি বলেন, প্রায় সাত কোটি মানুষ এই দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যদি কোনো প্রান্তিক মানুষ এই সুবিধা না পান তাহলে তিনি তার প্রতিবেশির সহায়তা নিতে পারেন।

অনলাইনে ইস্যু করা পাসটিতে যাতায়াতের যাবতীয় তথ্য থাকবে। একইসঙ্গে একটি কিউআর কোড স্ক্যানার থাকবে, যা স্ক্যান করে বিভিন্ন চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা সহজেই অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারবেন।

এই সম্পর্কিত আরো

সাম্প্রতিক