পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার পাবেন অনলাইন ক্লাসে দক্ষ প্রভাষকরা

অনলাইন ক্লাসে দক্ষ প্রভাষকরা পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার পাবেন। বেসরকারি স্কুল কলেজের এমপিও নীতিমালা অনুসারে প্রভাষকদের পদোন্নতি মূল্যায়নের মাধ্যমে দেয়া হবে। প্রভাষকদের পদোন্নতির ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের ১০ নম্বর অনলাইন ক্লাসের দক্ষতার ওপর রাখা হয়েছে। তাই, অনলাইন ক্লাসে পারদর্শী প্রভাষকরা পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস নিতে না পারা শিক্ষকদের থেকে এগিয়ে থাকবেন।

গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) বেসরকারি স্কুল কলেজের নতুন এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নতুন নীতিমালায় বিভিন্ন কলেজে কর্মরত প্রভাষকদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে, ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হলেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের প্রভাষকদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ প্রভাষক ৮ বছর পুর্তিতে পদোন্নতি পাবেন। তবে, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক কলেজের সব প্রভাষকের জন্যই পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে। আর ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের মাধ্যমেই প্রভাষকদের পদোন্নতি দেয়া হবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় প্রভাষকদের পদোন্নতির বিষয়ে বলা হয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক কলেজের প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ৮ বছর পুর্তিতে মোট প্রভাষকের মোট পদের ৫০ শতাংশ মূল্যায়নের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতি পাবেন। ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতি পাবেন তারা। জ্যেষ্ঠ প্রভাষকরা ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা স্কেলে ৬ গ্রেডে বেতন পাবেন। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে সহকারী অধ্যাপক বলেও কোন পদ থাকবে না বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ১০ বছর পুর্তিতে ৯ গ্রেড থেকে ৮ গ্রেডে বেতন পাবেন। মোট ১৬ বছর পুর্তিতে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। পদোন্নতি ছাড়া সমগ্র চাকরির জীবনে দুইটির বেশি উচ্চতর গ্রেড বা টাইমস্কেল পাবেন না।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ডিগ্রি কলেজের প্রভাষকদের চাকরির ৮ বছর পুর্তিতে মোট প্রভাষক পদের ৫০ শতাংশ নির্ধারিত সূচকে মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন। প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ১০ বছর পুর্তিতে ৯ গ্রেড থেকে ৮ গ্রেডে বেতন পাবেন। মোট ১৬ বছর পুর্তিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। পদোন্নতি ছাড়া সমগ্র চাকরির জীবনে দুইটির বেশি উচ্চতর গ্রেড বা টাইমস্কেল পাবেন না।

প্রভাষকদের পদোন্নতিতে যে ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে তাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এমপিও প্রাপ্তির জ্যেষ্ঠতায় ১৫ নম্বর, পরীক্ষার ফলে ১৫ নম্বর, ক্লাসে উপস্থিতি ২০ নম্বর, নেতিবাচক রেকর্ডে না থাকলে ২০ নম্বর, বিভাগীয় মামলা না থাকলে ৫ নম্বর, সৃজনশীল দৃষ্টান্তে ১০ নম্বর, ভার্চুয়াল ক্লাস নেয়ার দক্ষতায় ১০ নম্বর, এমফিল-পিএইচডিতে ৫নম্বর, গবেষণা কর্ম ও স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ থাকলে ১০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরে মূল্যায়নের মাধ্যমে পদোন্নতি পাবেন প্রভাষকরা

এই সম্পর্কিত আরো

সাম্প্রতিক